বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। মামলার গুরুত্ব ও নথির আলোকে আদালত এ সিদ্ধান্ত নেন।”
চিন্ময়ের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ঢাকার প্রবীণ আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন একটি আইনজীবী দল। জামিন শুনানিকে ঘিরে সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিচারপ্রার্থীদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদসহ কঠোর নজরদারিতে রাখা হয় পুরো এলাকা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা জাতীয় পতাকা অবমাননা করেছেন এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ নভেম্বর ঢাকার কলাবাগান এলাকা থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় চিন্ময়ের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন। আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়, যা সেদিনের আদালত চত্বরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
আলিফ হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং আদালত এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা করা হয়।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বর্তমানে এই মামলাগুলোরই একাধিক ধারায় বিচারাধীন। আজকের শুনানিতে আদালত পাঁচটি মামলায় তার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে ঘিরে আদালত এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আদালতে আগত সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
উল্লেখ্য, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বর্তমানে বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ এবং সহিংসতার অভিযোগে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন।