নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প জানান, আগে ইরানকে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো বা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার জন্য ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় প্রায় শেষ, এখন মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি—এরপরই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, একটি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশের মাধ্যমে এ প্রস্তাব পাঠানো হলেও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেয়নি। বরং সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
এদিকে, কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলার পর ওয়াশিংটন কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জিনহুয়ার বরাতে এ তথ্য সামনে আসে। একই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক শক্তিকে অবমূল্যায়ন করায় বর্তমানে চাপে পড়েছে এবং সেই কারণেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে।
সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি জলসীমায় একটি মার্কিন ‘এ-১০ ওয়ারথগ’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যা পরে পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়।
একই দিনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আরও দাবি করে, তারা একটি মার্কিন ‘এফ-৩৫’ যুদ্ধবিমানও গুলি করে নামিয়েছে। পরে মেহের নিউজ এজেন্সি জানায়, ওই বিমানের পাইলটকে খোঁজার সময় একটি মার্কিন ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টারও হামলার শিকার হয়।
অন্যদিকে, কোহগিলুইয়ে ও বয়ার-আহমাদ প্রদেশের গভর্নর ইয়াদুল্লাহ রাহমানি স্থানীয়দের শত্রুপক্ষের পাইলটদের খুঁজে বের করতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে, যা পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।