ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি উঠে আসা অভিযোগগুলো চমকে দিয়েছে অনেককেই। ভাঙ্গারি ব্যবসা থেকে উঠে এসে পুলিশের দায়িত্বশীল পদে পৌঁছানো এই কর্মকর্তা এখন গুলশানের বিলাসবহুল স্পা ও সেলুনের নিয়মিত অতিথি। প্রতিবারের সেলুন বিলই যেখানে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা সেখান থেকে তার আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাত্রার পর্দা আরও খানিকটা সরে যায়।
এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ উপার্জিত টাকার বিশাল একটা অংশ বিদেশে পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু সাভার, আশুলিয়া বা কেরানীগঞ্জই নয়—রাজশাহীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানের সময় তিনি নাকি বিশাল অঙ্কের অর্থ পাঠিয়েছেন দুবাই, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্যাংককে। স্বর্ণ ব্যবসা, আবাসন প্রকল্প, বিদেশে বাড়ি-রিসোর্ট কেনা সব মিলিয়ে আনিসের সম্পদের পরিমাণ কথিতভাবে হাজার হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় বদলানোর খেলায়ও তিনি পারদর্শী। কখনো নিজেকে জামায়াতপন্থী ভাবমূর্তিতে উপস্থাপন করেন, আবার সুযোগ বুঝে দাবি করেন বিএনপির ঘনিষ্ঠজন।
ক্ষমতার অপব্যবহারের নজিরও কম নয়। কখনো আওয়ামী লীগের আশ্রয়ে নিরাপদ ছিলেন, আবার পরিস্থিতি বদলালে নিজেকে বিএনপির অনুগত বলে পরিচয় দেন। কেবল রাজনৈতিক নেতাদেরই নয় আইজিপিকেও টেবিলে হাত মেরে কথা বলার মতো দম্ভও প্রকাশ করেন তিনি।
গাড়ি মেরামতের দোকান মালিক খোকনের কাছে পাওনা টাকা পরিশোধে গড়িমসি কিংবা রাজশাহীতে শ্বশুরবাড়ির পাশের এক বাসিন্দাকে পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানি এমন অভিযোগগুলোও তার বিরুদ্ধে ওঠেছে।
এসপি আনিসের বিরুদ্ধে অভিযোগের স্তুপ এতটাই ভারি হয়েছে যে অনেকেই তুলনা করছেন সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদের কুখ্যাত সম্পদ-সাম্রাজ্যের সঙ্গে। কেউ কেউ তো বলছেন “দুর্নীতির আলাদিনের চেরাগ” এখন আনিসের হাতেই।
ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর জনগণের একটাই দাবি ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে যারা অবৈধ উপার্জনে টাকার পাহাড় গড়েছেন, বিদেশে সম্পদ পাচার করেছেন, ক্ষমতার আড়ালে দুর্নীতি লুকিয়েছেন তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। বিশেষ করে এসপি আনিসুজ্জামানসহ যেসব প্রভাবশালী কর্মকর্তা দুবাই-আমেরিকায় কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হয়েছেন, তাদের কঠোর শাস্তিই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।