সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে।
গত ২ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি স্বাক্ষরিত পরিপত্রে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এ তথ্য প্রকাশ করে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, জনসেবা কার্যক্রম সচল রাখা ও দাপ্তরিক কাজে গতি আনতেই এই সময়সীমা কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি প্রযোজ্য। পাশাপাশি অফিসের অন্যান্য কর্মসূচিও এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত উপস্থিতিতে ব্যাঘাত না ঘটে।
‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’ অনুসরণ করে সময়মতো অফিসে আসা ও প্রস্থান বাধ্যতামূলক বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়
তবে কিছু ক্ষেত্র এই নির্দেশনার বাইরে রাখা হয়েছে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক বা অনুষদ সদস্য যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে নেই, তারা এ নিয়মের আওতায় পড়বেন না। এছাড়া হাসপাতাল, কারাগার, সংবাদমাধ্যম ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে রোস্টার ডিউটিতে নিয়োজিতদের ক্ষেত্রেও এই সময়সীমা বাধ্যতামূলক নয়।
মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং জরুরি গ্রাহকসেবায় সরাসরি যুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়েছে।
অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেমিনার, কর্মশালা, অতিথি বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাংক, হাসপাতাল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না। এ প্রবণতা ঠেকাতেই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
ভিভিআইপি বা ভিআইপি প্রটোকল, বড় দুর্ঘটনা মোকাবিলা, কূটনৈতিক বা উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং অনুমোদিত সরকারি সফর ছাড়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কর্মস্থল ত্যাগ না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।