দেশে রাজনৈতিক সংস্কারের বিরোধিতা করে অনেকেই মুজিববাদী রাজনীতিকে পুনরায় প্রাসঙ্গিক করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত” এখন একটি বহুল প্রচলিত ধারণায় পরিণত হয়েছে, কিন্তু কেউই এখনো এর সুস্পষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনি মনে করেন, স্বাধীনতার পর আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জনগণের কল্যাণের বদলে লুটপাটে ব্যস্ত ছিলেন— যার প্রতিফলন ১৯৭৫ এবং ২০২৪— উভয় সময়েই স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা যেখানে সফরে যান, সেখানে সার্ক প্রসঙ্গ তুলছেন। আঞ্চলিক সহযোগিতার এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো জরুরি।”
পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “জিয়াউর রহমান ছাড়া কেউই নতুন ও কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি উপহার দিতে পারেননি। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ— উভয় দলই ব্যর্থ হয়েছে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত পররাষ্ট্রনীতি গঠনে।” তাঁর ভাষায়, “আমাদের নীতি ছিল সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখন আমাদের প্রকৃত বন্ধু বলতে কেউ নেই।”
বর্তমান বিচার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। তাই ফ্যাসিবাদী শক্তি ওই দিন লকডাউনের ডাক দিয়েছে।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা এখন ভাবি না নির্বাচন করব কি করব না, কারণ টাকা ছাড়া ভোট পাওয়া সম্ভব নয়। অনেকে জোহরান মামদানির উদাহরণ দেন, কিন্তু বাংলাদেশের ৩০০ আসনের একটিতেও এমন ব্যতিক্রম ঘটার সম্ভাবনা নেই।”