জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের পদত্যাগ নয় বরং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। ব্যর্থ হলে জনগণের প্রতিক্রিয়া অনিবার্য হবে। তিনি শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় দেওয়া বক্তব্য নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দাবি করেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমানে যাদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে, তাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণই প্রত্যাশিত। পদত্যাগের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকার যোগ্যতা কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করা উচিত। অন্যথায় জনগণের প্রতিবাদ বারবার ফিরে আসতে পারে—যা কেউই কামনা করে না।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন’ হিসেবে উল্লেখ করায় হতাশা প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দেওয়া বক্তব্যে জাতির মধ্যে বিভ্রান্তি ও কষ্ট তৈরি হয়েছে। তিনি বিনয়ের সঙ্গে সিইসির কাছে তার বক্তব্য দ্রুত ও স্পষ্টভাবে জাতির সামনে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান। তার মতে, সংবেদনশীল পদে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ততা প্রমাণ করার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরই।
হাদির চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তবে এমন পরিস্থিতি যেন আর তৈরি না হয়—যেখানে তরুণরা আহত হয়ে মৃত্যুর মুখে পৌঁছায়, সে বিষয়ে সরকারকে আগেভাগেই কার্যকর দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আলোচনা সভায় ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে আহত ও শহীদদের স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের বিভেদ ভুলে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণ একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের প্রত্যাশায় রয়েছে। অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।