বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৫ আগস্টকে ইতিহাসের মোড় ঘোরানো এক গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। মেয়ের সঙ্গে এক বছর আগের মোবাইল কথোপকথনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই সময়কার আতঙ্ক ও আশার মিলিত অভিজ্ঞতা আজও তাঁকে নাড়া দেয়। ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এই দিনকে হাজারো শহীদ-যোদ্ধার ত্যাগ ও স্বৈরাচার পতনের দিন হিসেবে উল্লেখ করেন।
৫ আগস্ট কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত—এমনটাই মনে করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি স্মৃতিচারণ করেন গত বছরের সেই দিনটির কথা, যখন দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যেও তিনি প্রবাসে থাকা মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
“সকালে উঠেই মেয়েকে ফোন করলাম। ওর কণ্ঠ শুনেই বুক ভেঙে পড়লো। এক বছর আগে ঠিক এই সময় ও আমাকে ফোন করেছিল। ও শুধু আমার মেয়ে নয়, হাজারো প্রবাসী সন্তানের প্রতিচ্ছবি, যারা ভয়ে, আশঙ্কায়, অশ্রুজলে দিন কাটিয়েছে,”—পোস্টে এমনটাই লিখেছেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, “ও শুধু জানতে চেয়েছিল—‘কি হচ্ছে?’ আমি কিছুই বুঝিয়ে বলতে পারিনি। শুধু বলেছিলাম—‘ইনশাআল্লাহ, জয়ী হবো।’ সেই দিনগুলোর আতঙ্ক, নির্ঘুম রাত, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ—সবই এখনও তাজা হয়ে আছে মনে।”
মির্জা ফখরুল মনে করিয়ে দেন, দেশের অভ্যন্তরে যে ভয়াবহতা চলছিল, তার ছায়া দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসীদের জীবনেও পড়েছিল। “রাতজাগা, অশ্রু, আতঙ্ক—সবই ছিল আমাদের সাথেও। কিন্তু ছিল বিশ্বাস, অন্যায়ের পতন হবেই।”
তিনি শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “হাজারো শহীদ আর যোদ্ধার ত্যাগের ফসল এই দিন—৫ আগস্ট ২০২৪। এটি শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি একটি যুগান্তকারী বিজয়ের নাম, একটি ইতিহাস বদলের মুহূর্ত। বহু বছরের সংগ্রামের সফল পরিণতি।”
পোস্টের শেষাংশে ফখরুল লেখেন, “স্বাধীনতা কেবল অর্জনের বিষয় নয়, এটি রক্ষার দায়িত্বও। এখন আমাদের করণীয় হলো—এই অর্জনকে ধরে রাখা। বুদ্ধি, সংযম আর সাহস দিয়েই আগামীর পথ তৈরি করতে হবে।”