ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিককে ঘিরে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র ও সহকর্মীদের দাবি, আসন্ন পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ঠেকাতেই এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
সূত্র বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন, অনিয়ম ও পদায়ন সংক্রান্ত নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। যদিও ওসি পদায়নের বিষয়ে রেঞ্জ ডিআইজির সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই—তবুও তাকে জড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে সক্রিয়, যারা পেশাগত প্রতিযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চায় না। সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার বিরুদ্ধে পুরনো ও বিকৃত তথ্যও পুনরায় প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক সূত্র আরও জানায়, তার সম্ভাব্য পদায়ন নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশের পরই ভেতরে ভেতরে কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে বৈঠক হয়, যেখানে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট থেকে দূরে রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। এরপরই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমন্বিতভাবে অপপ্রচার শুরু হয় বলে ঘনিষ্ঠরা জানান।
রেজাউল করিম মল্লিক ১৯৯৮ সালে ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে পুলিশে যোগ দেন। পরে তিনি পুলিশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তাকে ডিআইজি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং পরে ঢাকা রেঞ্জের দায়িত্ব পান।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি একাধিক অভিযান পরিচালনা করেন বলেও উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা রেঞ্জে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন স্পর্শকাতর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন সহকর্মীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই ছাড়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই এ ধরনের তথ্যের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ঢাকা রেঞ্জে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার নেতৃত্বে বিভিন্ন জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা এসেছে বলেও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানোর কারণে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে তারা জানান।