দেশকে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের খেলায় পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। তারা বলেন, পূর্বের স্বৈরাচার সরকারের বন্দর ইজারা পরিকল্পনা এখন অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। সরকারের এই তৎপরতা প্রকৃত উন্নয়ন নয়, বরং বিদেশি বিনিয়োগকে উন্নয়ন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা মাত্র।
আজ শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের প্রতিবাদে ১৬ নভেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দেশবাসীর অংশগ্রহণে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন—বাম জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ কাফি রতন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র সমন্বয়ক মাসুদ রানা এবং সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী।
নেতারা প্রধান উপদেষ্টার ভাষণকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা আখ্যায়িত করেছেন। ভাষণে বলা হয়েছে, ডেনমার্কভিত্তিক মায়ার্স্ক গ্রুপের মালিকানাধীন এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তি হতে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে দ্রুত বন্দর বিদেশিদের হাতে হস্তান্তর জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করছে। এমন প্রকল্পে ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সরকার তা উপেক্ষা করছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মব-সন্ত্রাস, নারীর ওপর নির্যাতন, উগ্র মৌলবাদী কার্যকলাপ, খুন-গুম, শ্রমিক ছাঁটাই—সব মিলিয়ে জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো এ সুযোগে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘসূত্রিতা ও দুর্বল তদন্তের কারণে মানুষের মধ্যে সন্দেহ আছে। এখনও কোনো মামলার রায় হয়নি, অথচ প্রধান উপদেষ্টা ‘বিচার চলছে’ বলছেন। নেতারা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট ও উচ্চকক্ষ গঠন প্রস্তাব অপ্রয়োজনীয় ও জনগণের জন্য বোঝা হবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা কেবল নির্বাচিত সংসদের। তাই দ্রুত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।