২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হয়। কোটাসংস্কার কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকের প্রতিক্রিয়ায় ছাত্র ও জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে যে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে, তা ছিল দেশব্যাপী বৈষম্য, দুর্নীতি, অন্যায়, নিপীড়ন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ।
প্রায় ২০ হাজার মানুষ—ছাত্র, সাধারণ জনগণ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, আলেম, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং অন্যান্য পেশার মানুষকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও কারাবরণ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয় এবং নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
অন্তবর্তীকালীন সরকার আহত যোদ্ধাদের জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল, কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কারাবন্দী রাজবন্দীদের জন্য এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘোষণাপত্রে রাজবন্দীদের কথা উল্লেখ না থাকায় একপাক্ষিক অবমূল্যায়ন দেখা দিয়েছে।
কক্সবাজারের রাজবন্দীদের ৭ দফা দাবি:
১. রাজবন্দী দিবস ঘোষণা: ৬ই আগস্টকে ‘রাজবন্দী দিবস’ ঘোষণা ও প্রতিবছর যথাযথভাবে উদযাপন।
২. জুলাই ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ: ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের রাজবন্দী’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে নিঃশর্ত মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
৩. রাজবন্দী স্বীকৃতি ও সম্মাননা: গেজেট প্রকাশ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা প্রদান।
৪. চিকিৎসা সেবা ও এককালীন ক্ষতিপূরণ: বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং অসহায়দের জন্য আর্থিক সহায়তা।
৫. মামলা ও অভিযোগ প্রত্যাহার: সমস্ত মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার ও ক্লিনশীট প্রদান।
৬. রাজবন্দীদের ইতিহাস সংরক্ষণ: সাহস, আত্মত্যাগ ও নিপীড়নের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তক ও রাষ্ট্রীয় স্মারকে অন্তর্ভুক্ত করা।
৭. নিপীড়নের বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা: আন্দোলনকালীন নির্যাতন ও অবৈধ অভিযোগের তদন্ত ও দোষীদের বিচার, ভবিষ্যতে মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা।
রাজবন্দীরা আশা করছেন, সরকার ন্যায় ও মানবিকতার পথে এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে এবং দীর্ঘদিন অবহেলিত রাজবন্দীদের মর্যাদা ও ন্যায্যতা ফিরিয়ে দেবে।