জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে মাত্র এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্বের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
দলীয় চাপ ও সাম্প্রতিক একাধিক নির্বাচনী ব্যর্থতার কারণে ইশিবা পদত্যাগে বাধ্য হন। টানা পরাজয়ের ফলে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) জাপানের সংসদের দুই কক্ষেই দুর্বল অবস্থানে চলে যায়। রাজনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় ইশিবা শেষমেশ সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেন। এ চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র জাপানি গাড়ির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামাতে সম্মত হয়েছে। বিনিময়ে জাপান যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি নিশ্চিত করার পরই ইশিবা তাঁর পদত্যাগ ঘোষণা করেন।
ইশিবার পদত্যাগের ফলে এখন এলডিপির নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে। অক্টোবরের শুরুতেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি, জনপ্রিয় তরুণ রাজনীতিক শিনজিরো কোইজুমি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশি। তবে এলডিপি সংসদে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে না পারায় নতুন নেতৃত্ব সামনে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছরের অক্টোবরে ক্ষমতায় আসা শিগেরু ইশিবার প্রধানমন্ত্রীত্বকে স্বল্পমেয়াদী বলা হচ্ছে। মাত্র ১১ মাসের মধ্যে পদত্যাগ করতে হওয়ায় জাপানের রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক মুদ্রাস্ফীতি, কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও বিভক্ত সংসদের মধ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তন দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।