কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরাহমান বিন জসিম আল থানি জানিয়েছেন, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলার কারণে কিছুটা অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলেও কাতারের কূটনৈতিক তৎপরতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কাতার দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার ফলে কাতারে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে মঙ্গলবার হামলার কয়েক ঘণ্টা পর এক ব্রিফিংয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ঘটনা দোহার কূটনৈতিক তৎপরতাকে প্রতিহত করতে সক্ষম হবে না। তিনি বলেন, “গাজায় আগ্রাসন বন্ধে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল, তা কিছুটা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তবে কাতারের কূটনীতি কোনো বহিরাগত দেশের আচরণের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়নি। এটি কাতারের নিজস্ব নীতির অংশ এবং হামলা আমাদের তৎপরতাকে থামাতে পারবে না।”
সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, গাজায় যুদ্ধবিরতির একটি খসড়া প্রস্তাব গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের কাছে পাঠানো হয়েছিল। কাতারের রাজধানী দোহায় মঙ্গলবার হামাসের শীর্ষ নেতা ও মুখপাত্র খলিল আল হায়াসসহ হাইকমান্ডের অন্যান্য সদস্যরা সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, “স্থিরতা ও এই অঞ্চলের জনগণের শান্তির জন্য কাতার দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশে ২০১৭ সাল থেকে কাতারে বসবাস করছেন হামাসের হাইকমান্ডের নেতারা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামাস-ইসরায়েল সংঘর্ষের মধ্যে কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর শীর্ষ তিন মধ্যস্থতাকারীর মধ্যে অন্যতম।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরায়েলের হামলা এককভাবে নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তে হয়েছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
সূত্র: সিএনএন