মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভাটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, “আমরা প্রত্যেকে ভুক্তভোগী। অন্তত ৫০০ মামলার আসামি হয়েছি। কিন্তু আমরা চাই না আমাদের সামনে আর কেউ অপমানিত হোক। তবে যারা ফ্যাসিবাদকে প্রশ্রয় দিয়েছে, কিংবা তার বয়ানে সুর মিলিয়েছে—তাদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। জনগণ তাদের বিচারের অপেক্ষায় আছে।”
জাতীয় পার্টির মহাসচিবের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—“জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেছেন, বিএনপিকে এখন তাদের দায় নিতে হবে। অথচ বিএনপি তো এখন ক্ষমতায় নেই, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনও হয়নি। তাহলে এই দায়ের কথা কেন বলা হচ্ছে?”
ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, “প্রথমে শুনেছিলাম জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোনো বিরোধ হয়েছে। কিন্তু আক্রমণকারীর পরিচয় কী? লাল শার্ট পরা সেই ব্যক্তি কে? যে কেউ সমালোচনা করতে পারে, এটিই গণতন্ত্রের স্বীকৃত অধিকার।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপির সমালোচনা বিএনপিই করবে। অন্য কোনো দলের দায় বিএনপি নেবে না। যখন ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম কিংবা সাইফুল ইসলাম হিরু নিখোঁজ হলেন, তখন জাতীয় পার্টি কোথায় ছিল? ছাত্র-যুব নেতারা গুম হওয়ার সময়ও তাদের দেখা যায়নি।”
২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী অভিযোগ করেন, জাতীয় পার্টি সেই সময়ে আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়িয়ে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, “২০১৪ সালের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটার না থাকলেও জাতীয় পার্টি অংশ নিয়েছিল। ২০১৮ সালে বিএনপি অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলে প্রায় ৪৫ জন প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখনও জাতীয় পার্টি কী করেছিল?”
জিএম কাদেরের ভারত সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, “ভারত ছাড়া কিছু বলতে পারবেন না—এমন কথা বলে কি প্রমাণ করলেন জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের দল, নাকি ভারতের?”
রিজভী জোর দিয়ে বলেন, “বিএনপি কোনো মব সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নয়। কে রাজনীতি করবে, করবে না—এটা আইনের বিষয়। আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে রক্ষা করতে, জনগণের সম্পদ পাচারে সুবিধা করে দিতে এবং ভয়ংকর স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জাতীয় পার্টি ভূমিকা রেখেছে। অথচ বিএনপি কখনো বেআইনি নির্যাতন বা টর্চারে বিশ্বাস করে না।”
তিনি আরও একবার স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা আক্রান্ত হলেও চাই না অন্য কেউ লাঞ্ছিত হোক। তবে ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে।”
আলোচনা সভায় উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা আতিকুর রহমান রুমন সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।