রোববার (১৯ জুলাই) সকালে প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
তদন্ত প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তালিকায় তৎকালীন পুলিশ ও র্যাবের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা এবং লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীরের নামও রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত সংস্থার দাখিল করা প্রতিবেদনটি এখন আইনগত ও কারিগরি দিক থেকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২১ জুলাই এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। এরপর মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
তিনি বলেন, তদন্তে এ পর্যন্ত ঢাকায় ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে রোববার সকালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যায়। সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ (মধুপুর পীর সাহেব)-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ ১০ থেকে ১৫ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে। দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর রাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সমাবেশটি ছত্রভঙ্গ করা হয়। ওই অভিযানে বহু মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ ওঠে। তবে সে সময়ের আওয়ামী লীগ সরকার নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রচারিত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছিল।