শনিবার (৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাই নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই একটি রাষ্ট্র প্রকৃত অর্থে উন্নতির পথে এগোতে পারে। এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’—সময়ের সঙ্গে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দেশে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর উদ্যোগে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে নারী বিষয়ক দফতর এবং ১৯৭৮ সালে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ১৯৯৪ সালে এটিকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তর করে।
নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত ছিল নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।
বর্তমান সরকারও নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণসহ নানা উদ্যোগ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাইবার বুলিংসহ অনলাইন হয়রানি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে নারী-পুরুষ সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে সমাজ, রাষ্ট্র ও পরিবারে কাজ করবে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গৃহীত কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।