বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে “রাজনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যতের পথরেখা” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “অস্পষ্টতা ও কুতর্কের মধ্যে দেশকে ঠেলে দিলে ভবিষ্যৎ অন্ধকারে হারিয়ে যাবে। বিএনপি ও জামায়াতকে এসব বাদ দিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রাখতে হবে।”
তিনি বলেন, “বিএনপির জন্ম হয়েছিল ‘হ্যাঁ’ ভোটের মধ্য দিয়ে। কিন্তু যদি তারা ‘না’ ভোটে অনড় থাকে, তবে বিএনপির রাজনৈতিক মৃত্যুও হবে সেই ‘না’ ভোটের মধ্য দিয়েই। বিএনপি একটি বড় দল—তারা নিজেদের রাজনৈতিক কবর নিজেরাই রচনা করুক, এটা আমরা চাই না।”
জামায়াতের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণভোট ইস্যুতে জামায়াত ও বিএনপি একত্র হয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আপার হাউজ-লোয়ার হাউজের কৌশলে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এটি রাজনীতির জন্য শুভ নয়।”
সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “সংস্কার কমিশনের ড্রাফট গোপনে নয়, খোলামেলা প্রকাশ করতে হবে। আমরা সেটি দেখেই আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করব। এখন বল রয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের কোর্টে।”
তিনি রসিকতার সুরে আরও বলেন, “ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়। কিন্তু বাংলাদেশের মাঠ সবসময় পিছলা। এই পিছলা মাঠে অনেকেই তেল মেখে রাখেন, বিশেষ করে আমাদের আইন উপদেষ্টা, যিনি রাজনীতিবিদদের আরও বেশি পিছলাতে চান।”
ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, “দেশের পরিস্থিতি অনিশ্চিত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হলে যদি দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে যায়, তার দায় প্রধান উপদেষ্টাকেই নিতে হবে।”
আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার দাবি জানিয়ে এনসিপি নেতা বলেন, “জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় নয়। আমরা কাউকে আক্রমণ করিনি, কিন্তু কেউ বাধা দিলে প্রতিরোধ করব। বিএনপির প্রতি আহ্বান—আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আনবেন না।”