শনিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স (ডায়রা) আয়োজিত বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫-এর এক সেশনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সেশনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল 'রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট: আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি, প্রত্যাবাসনের পথ এবং জীবিকার চ্যালেঞ্জ'।
কুগেলম্যান বলেন, এই সংকটকে শুধু মানবিক আবেদন হিসেবে না দেখে, এর সঙ্গে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তাকেও যুক্ত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, মিয়ানমারে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী পুরো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করছে, যা বিশ্বের জন্য একটি বিরল ঘটনা।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, "নিরাপত্তার দিকটিকে অতিরঞ্জিত করলে তা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে।" তার মতে, মানবিক সংকটকে পুরোপুরি নিরাপত্তা ইস্যুতে রূপান্তর করলে তা ভুল ধরনের হস্তক্ষেপের কারণ হতে পারে। তাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি মধ্যপন্থা খুঁজে বের করা, যা বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণ করবে, কিন্তু একই সঙ্গে এটি যে একটি মানবিক সংকট, সেই বাস্তবতাও তুলে ধরবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নেতারা ধারাবাহিকভাবে রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে দেশের সবচেয়ে জরুরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ বিষয়ে সচেতনতা এখনও কম। কেবল জাতিসংঘ ও কিছু ত্রাণ সংস্থাই এ নিয়ে কাজ করছে।
কুগেলম্যান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক ফোরামে এই বিষয়ে কথা বলেছেন এবং অন্যান্য দেশকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে এটি একটি অত্যন্ত কঠিন দাবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।