ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যেভাবে পরিস্থিতি তুলে ধরা হচ্ছে, বাস্তবে তা পুরোপুরি সঠিক নয়।
অনেক দেশ ও জাহাজ মালিক নিরাপদে চলাচলের জন্য তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, এবং যাদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো বা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তাদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় রয়েছে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত এবং বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে ভারতের কিছু জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতেও সমন্বয়ের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা চালু থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তবে সব দেশের জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়। আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং সংঘাতে সম্পৃক্ত কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজকে এই পথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তার ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে অঞ্চলটি কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, তাই প্রতিপক্ষদের জন্য কোনো সুযোগ রাখা হচ্ছে না।
এদিকে, চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানগামী একটি কন্টেইনার জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হতে বাধা দেয় ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচির উদ্দেশ্যে যাওয়া ‘SELEN’ নামের জাহাজটি প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় ফিরে যেতে বাধ্য হয় বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান প্রণালিতে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রভাব বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে পরিস্থিতির প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বাড়ছে পরিবহন খরচ, তৈরি হচ্ছে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা।
যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যেখানে সাধারণ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করে, সেখানে মার্চ মাসের শুরু থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত মাত্র ১৫৫টি জাহাজ পার হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৯৫ শতাংশ কম।
এই সময়ের মধ্যে অধিকাংশ জাহাজই ছিল তেল ও গ্যাসবাহী এবং সেগুলোর বেশিরভাগ পূর্বমুখে চলাচল করেছে। অন্যদিকে, ২৫ মার্চ মাত্র দুটি জাহাজ পশ্চিমমুখে প্রণালি অতিক্রম করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি