প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারক ফাখারেদ্দিন আল-আরিয়ান রায়ে বলেন, বাশার আল-আসাদ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে ভূমিকা রেখেছেন। আসাদ পরিবারের প্রায় পাঁচ দশকের শাসনের অবসানের পর তার বিরুদ্ধে এটিই প্রথম বড় ধরনের বিচারিক রায়। দেশটির ১৪ বছরের সংঘাতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে বিভিন্ন হিসাবে উল্লেখ করা হয়।
আতেফ নাজিবকে দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনের জন্য দায়ী করা হয়েছে। ২০১১ সালে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বে থাকা নাজিবের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ রয়েছে। দারায় সরকারবিরোধী গ্রাফিতি লেখার অভিযোগে কয়েকজন কিশোরকে আটক ও নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তী সময়ে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর বাশার আল-আসাদ ও তার ভাই মাহের রাশিয়ায় চলে যান এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ তাদের হস্তান্তরের জন্য রাশিয়ার কাছে দাবি জানিয়েছে। মাহের এর আগে সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং বিরোধীদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
আতেফ নাজিব সিরীয় সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন এবং ২০১১ সালে দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার নেতৃত্বে ছিলেন। ওই সময়ের দমন-পীড়নকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্রোহীদের অভিযানের মুখে ২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে।