প্রতিবছরের মতো এবারও নতুন গিলাফ প্রস্তুত করা হয়েছে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও দক্ষ হাতে। মক্কায় অবস্থিত কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সে প্রায় ১১ মাস সময় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এটি। সর্বোচ্চ মানের রেশম ও মূল্যবান সোনা-রূপার সুতো দিয়ে তৈরি এই গিলাফে রয়েছে ৬৮টি কোরআনি আয়াত, যা সূক্ষ্ম ক্যালিগ্রাফিতে বোনা হয়েছে।
নতুন গিলাফের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: প্রায় ১,৪১৫ কেজি ওজন, ৪৭টি প্যানেলের সমন্বয়ে তৈরি, এবং এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৮২৫ কেজি রেশম, ১২০ কেজি সোনার সুতো ও ৬০ কেজি রূপার সুতো। এছাড়াও পুরো গিলাফে ব্যবহৃত রেশমকে গভীর কালো রঙে রঞ্জিত করা হয়েছে যা এর সৌন্দর্য ও মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে।
গিলাফ পরিবর্তনের পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর জেনারেল প্রেসিডেন্সির অধীনে নিযুক্ত বিশেষ প্রশিক্ষিত ১০০ জনের একটি টিম। প্রক্রিয়াটি চারটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়, যেখানে পুরনো গিলাফ একে একে সরিয়ে তার স্থানে নতুন গিলাফ প্রতিস্থাপন করা হয়। এ সময় কাবা শরিফের চারপাশে থাকা হাজি ও ওমরাহযাত্রীদের চলাচলে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ও সমন্বয়মূলক ব্যবস্থা।
প্রসঙ্গত, অতীতে আরাফাত দিবসে, অর্থাৎ হজের ৯ জিলহজ রাতে কাবার গিলাফ পরিবর্তনের প্রচলন ছিল। তবে ২০২২ সাল থেকে এই রেওয়াজ পরিবর্তন করে তা হিজরি নববর্ষ, অর্থাৎ ১ মহররম রাতেই সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মাধ্যমে পবিত্র কাবাকে নতুন বছর শুরুর আগেই নতুন পোশাকে সজ্জিত করার ধারা চালু হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমান এই মাহেন্দ্রক্ষণ প্রত্যক্ষ করেন টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমে। এই ঘটনাটি কেবল একটি ধর্মীয় রীতিই নয়, বরং তা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক সংযোগের এক অনন্য প্রতীক।