বুধবার (১৭ জুন) রাতে ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলন-পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে। পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সমঝোতা স্মারকে অনুমোদন দিয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে অগ্রসর হবে না, আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক উত্তেজনা বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে এবং দুই দেশের প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুক্তির বাস্তব বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক অঙ্গীকারগুলো কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করা।
এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ভার্চুয়াল স্বাক্ষরের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।
এদিকে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের আলোচক দলের উপস্থিতির পরিকল্পনা থাকলেও সমঝোতা স্মারক অনলাইনে স্বাক্ষরিত হওয়ায় সেখানে আর কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে ভবিষ্যতে মুখোমুখি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে জানানো হতে পারে।