ইসরায়েলি সেনারা গাজা সিটিজুড়ে ঘোষণা দিয়েছে— “এটাই পালানোর শেষ সুযোগ।” দীর্ঘদিন আগ্রাসন ও গোলাগুলির মুখে থেকেও যারা শহরে টিকে ছিলেন, তারাও অবশেষে নিরাপত্তার খোঁজে গাজা ছেড়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ভোর থেকেই শহর ছেড়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে। পায়ে হেঁটেই চলেছেন অধিকাংশ মানুষ, কারণ পরিবহন ব্যবস্থা নেই, আর থাকলেও ভাড়া দেওয়ার মতো সামর্থ্য কারও হাতে নেই।
এক বাসিন্দা বলেন, “গাজার অবস্থা ভয়াবহ। আমরা স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলাম, কিন্তু ড্রোন এসে সতর্ক করল— আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছি।” আরেকজন বলেন, “আমরা জানি না কোথায় যাচ্ছি, শুধু মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতেই হেঁটে চলেছি।”
প্রায় দুই বছর ধরে হামলার শিকার হলেও গাজা সিটিতে মাটি আঁকড়ে ছিলেন হাজারো ফিলিস্তিনি। তবে এখন আশ্রয়শিবিরগুলোও নিরাপদ নয়, বরং মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। শহরের বাজারে নেই যথেষ্ট খাবার, আর দ্রব্যমূল্যও আকাশছোঁয়া— সব মিলিয়ে গাজায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
গেল আগস্টের শেষ দিকে দ্বিতীয় ধাপে চালু হওয়া ‘অপারেশন গিডিয়নস চ্যারিয়ট’ এর লক্ষ্য গাজা সিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়া। এ অভিযানের পর থেকেই বাড়তে থাকে হামলার মাত্রা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখনও ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষ আটকে আছেন, আর গত কয়েক সপ্তাহেই শহর ছেড়েছেন প্রায় ৪ লাখ ফিলিস্তিনি।