চুক্তিতে লরিটির ধারণক্ষমতা ৯ হাজার লিটার দেখানো হলেও এর প্রকৃত ক্ষমতা ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ লিটার। অর্থাৎ, বাড়তি সাড়ে চার হাজার লিটার ধারণক্ষমতা গোপন করে অতিরিক্ত তেল পরিবহনের সুযোগ রাখা হয়েছিল।
গত ২৭ জুলাই মেসার্স আছিয়া এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ট্যাংকলরিটি বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজেল সরবরাহ করে। কিন্তু সেখানে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা লরির সক্ষমতায় অসামঞ্জস্য খুঁজে পান এবং তেল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শ্রমিক-মালিকপক্ষ আপত্তি তোলে।
আবুল কালাম, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা ট্যাংকলরি শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, "সাড়ে ১৩ হাজার লিটারের লরি চুক্তিতে ৯ হাজার লিটার দেখানো হয়েছে। এটি জালিয়াতি ছাড়া কিছু নয়। মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষই এর বিরোধিতা করেছে।"
চুক্তির সময় জমা দেওয়া বিএসটিআইয়ের ক্যালিব্রেশন সনদে ট্যাংকলরির ধারণক্ষমতা ৯ হাজার লিটার উল্লেখ করা হয়। তবে যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, সনদে স্বাক্ষরকারী কর্মকর্তা গত জানুয়ারিতেই অন্যত্র বদলি হয়েছেন। অর্থাৎ, কাগজটি জাল।
সনদের কিউআর কোড স্ক্যান করলে ভিন্ন একটি গাড়ির (ঝিনাইদহ-ঢ-৪১-০০৩৮) প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেটিও আছিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিকানাধীন আরেকটি লরি।
আছিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মানিক শেখ বলেন, “আমি ভুলবশত বেশি ধারণক্ষমতার লরি দিয়ে কম তেল পরিবহনের চুক্তি করেছি। বাড়তি তেল নেয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সক্ষমতা কম দেখাইনি। আপত্তি ওঠায় চুক্তি প্রত্যাহার করেছি।”
১৮ আগস্ট যমুনার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দেওয়া চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি বাতিল ও জামানতের ৫ লাখ টাকা ফেরত চায়।
সূত্র জানায়, জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তড়িঘড়ি করে যমুনা কর্তৃপক্ষ ৩ আগস্ট তারিখে একটি বাতিল চিঠি তৈরি করে। কিন্তু এর পরও ১৭ আগস্ট পর্যন্ত লরিটি ডিপো থেকে তেল পরিবহন করে। পরে আবার ১৮ আগস্ট তারিখে নতুন করে বাতিল চিঠি জারি করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়,“চুক্তিতে লরিটি ৯ হাজার লিটারের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এটি সাড়ে ১৩ হাজার লিটারের। এই অসামঞ্জস্যে কোম্পানি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাই চুক্তি বাতিল করা হলো।”
যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুস্তফা কুদরত-ই ইলাহী বলেন, “বাস্তব ধারণক্ষমতা ও সনদের মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকায় চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি চুক্তির আগেই যাচাই করার কথা ছিল। কীভাবে এই জালিয়াতি ঘটল, তা তদন্ত করা হবে।”
যমুনার কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ ধরনের চুরি নতুন নয়। প্রতি লরিতে সামান্য করে অতিরিক্ত তেল দেওয়া হয়, যা পরে ‘কারিগরি ক্ষতি’ হিসেবে দেখানো হয়। এবার সাড়ে চার হাজার লিটার বাড়তি সক্ষমতা গোপনের ঘটনাও সেই ধারাবাহিক জালিয়াতির অংশ।
সূত্র :প্রথম আলো