ইরান থেকে ফেরত আসা শরণার্থীদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী বাস আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ৭১ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত গতি ও অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগই ছিলেন ইরান থেকে জোরপূর্বক ফেরত আসা আফগান নাগরিক। এই মর্মান্তিক ঘটনা তালেবান শাসিত আফগানিস্তানের চলমান মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে ইরান থেকে ফেরত আসা শরণার্থীদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী বাস ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। এতে অন্তত ৭১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রাদেশিক মুখপাত্র আহমদুল্লাহ মুত্তাকি ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
হেরাত প্রদেশের পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় অতিরিক্ত গতি ও অবহেলার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে একটি মোটরসাইকেল ও একটি ট্রাকও জড়িত ছিল। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই বাসের যাত্রী ছিলেন। এছাড়া সংঘর্ষে ট্রাকের দুজন ও মোটরসাইকেলের দুজনও প্রাণ হারান।
প্রাদেশিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ সাঈদি জানান, বাসটি ইরান থেকে ফেরত আসা আফগানদের রাজধানী কাবুলে নিয়ে যাচ্ছিল। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদও নিশ্চিত করেছেন যে নিহতরা সম্প্রতি ইরান থেকে বহিষ্কৃত শরণার্থী ছিলেন। তবে নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এই দুর্ঘটনা ঘটলো মাত্র একদিন পর, যখন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি ঘোষণা দেন—আগামী মার্চের মধ্যে আরও ৮ লাখ আফগানকে দেশ ছাড়তে হবে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ব্যাপক হারে আফগানদের বহিষ্কার করছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, এ বছরের জুনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার আফগানকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে। কেবল ১ জুন থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে সীমান্ত দিয়ে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ২১৮ জন প্রবেশ করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলছে, ২০২৪ সালে এ পর্যন্ত ইরান থেকে ফেরত আসা আফগান নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৬ হাজার ৩২৬ জনে।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে আফগানিস্তান ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে। দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও খাদ্যাভাবের সঙ্গে শরণার্থীদের জোরপূর্বক ফেরত আসা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন হাজার হাজার আফগান সীমান্ত পার হয়ে ফেরত আসায় দেশে নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও মানবিক সহায়তা ব্যবস্থায় মারাত্মক চাপ তৈরি হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা