বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ সিদ্ধান্তকে ‘অপর্যাপ্ত ও অপমানজনক’ উল্লেখ করে তারা সোমবার সকাল থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান কর্মবিরতি আরও জোরদার করা হবে।
সরকার বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ বা ন্যূনতম দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করে রোববার (১৯ অক্টোবর) আদেশ জারি করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি অনুবিভাগ থেকে জারি করা ওই আদেশে বলা হয়, বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত এ হারে ভাতা প্রদান করা হবে।
তবে শিক্ষক-কর্মচারীরা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে একে ‘অবমাননাকর ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবতা প্রতিফলিত করে না।
রোববার বিকেলে শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী ঘোষণা দেন, “আমরা শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরারের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করছি। তার প্রতি আমাদের আস্থা নেই। এখন আমরা প্রধান উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে আছি। আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে আমরণ অনশন শুরু হবে।”
এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষক-কর্মচারীদের ‘ভুখা মিছিল’ কর্মসূচি শহীদ মিনার থেকে শুরু হলেও হাইকোর্টের মাজার গেটে পুলিশ ও বিজিবির বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। পরে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তারা শহীদ মিনারে ফিরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি প্রতিনিধিদল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন চান। বিকেলে শহীদ মিনারে গিয়ে ডাকসু ভিপি সাদেক কায়েমও আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “শিক্ষকেরা যেন শ্রেণিকক্ষে ফিরে গিয়ে পাঠদান শুরু করেন—এই অনুরোধ জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, চিকিৎসাভাতা ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং উৎসবভাতা ৫০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার দাবিতে ১২ অক্টোবর থেকে আন্দোলনে আছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। ওই দিন পুলিশের বাধায় তারা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। এরপর থেকে দেশজুড়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি চলছে।
চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তারা প্রেসক্লাব ও শহীদ মিনারে অবস্থান, সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ এবং শাহবাগ অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।