দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ভিপি ও জিএস পদে জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্প্রীতি’। অন্যদিকে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী তৌফিক।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদ—সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস)—জয় করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতি’ শিক্ষার্থী জোট। অন্যদিকে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ভিপি পদে বিজয়ী হয়েছেন ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি, যিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ছাত্রদল সমর্থিত সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়।
জিএস পদে বিজয়ী হয়েছেন ইতিহাস বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী সাঈদ বিন হাবিব। তিনি পেয়েছেন ৮ হাজার ৩১ ভোট এবং ছাত্রদল প্রার্থী শাফায়াতকে পরাজিত করেন।
অন্যদিকে এজিএস পদে জয় পেয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের এই শিক্ষার্থী পেয়েছেন ৭ হাজার ১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন শিবির সমর্থিত সাজ্জাদ হোসেন মুন্না।
এর আগে বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে অংশ নেয় ১৩টি প্যানেল, মোট ২৩২ পদে প্রার্থী ছিলেন ৯০৮ জন। মোট ২৭,৫১৮ জন ভোটার ব্যালট পেপারে ভোট দেন, যা পরে ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) পদ্ধতিতে গণনা করা হয়। ফলাফল ঘোষণা করা হয় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে অনুষদের ডিনদের রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় সভাপতিদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভোটার তালিকায় ছবি সংযুক্ত করা ছিল। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ভোটের দিন শাটল ট্রেন ১১ বার এবং ১৫টি বাস চলাচল করে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯০ সালে। দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত হয় এ ঐতিহাসিক নির্বাচন, যা ক্যাম্পাসে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।