ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে একটি বড় ইসলামি দলের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। ঘটনার পর তার চলাচল ও সীমান্ত সংযোগ তদন্তের আওতায় এসেছে।
ওসমান হাদিতে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের মালিকানাধীন ‘অ্যাপেল সফট আইটি লিমিটেড’-এর কম্পিউটার জব্দ করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তার পরিবারের একজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ফয়সালের সঙ্গে একটি বড় ইসলামি দলের কয়েকজন নেতার যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। ঘটনার পর সে মোটরসাইকেলে সাভার ও ধামরাই হয়ে নালিতাবাড়ি যায়। এরপর সীমান্ত এলাকায় তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। সে ভারতে পালিয়েছে নাকি দেশে আত্মগোপনে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নালিতাবাড়ি সীমান্ত থেকে সিববিয়ন ও সঞ্জয় নামে দুইজনকে আটক করেছে আইন–শৃঙ্খলা বাহিনী। তারা অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে লোক পারাপারের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফয়সাল করিম অতীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০১৯ সালের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি ২০১০ সালে আইটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং পরে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি কম্পিউটার গেম নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন পুরানা পল্টনে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। মোটরসাইকেলযোগে আসা আততায়ী তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাদির সঙ্গে ফয়সালের সাম্প্রতিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হামলাকারীকে ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।