আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী সরজিস আলমের আয় ও সম্পদ বিবরণে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় পঞ্চগড়-১ আসনের এই প্রার্থী তার বার্ষিক ব্যবসায়িক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। তবে একই নথির সঙ্গে সংযুক্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তার আয় উল্লেখ রয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। হলফনামায় এই দুটি ভিন্ন অঙ্কই আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২৭ বছর বয়সী স্নাতকোত্তর এই প্রার্থী নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আয় ছাড়াও সম্পদের হিসাবেও গরমিল দেখা যায়। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা হলেও হলফনামায় ঘোষিত সম্পদের বিস্তারিত বিবরণে এর তুলনায় কম সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়।
হলফনামা অনুযায়ী, তার চলতি সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদ ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ১ লাখ টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।
এ ছাড়া তিনি উপহারপ্রাপ্ত ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষিজমির মালিকানার কথা জানিয়েছেন, যার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। ২০২৫–২৬ করবর্ষে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৫২ হাজার ৫০০ টাকা।
নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণীতে সরজিস আলম জানিয়েছেন, তিনি চারজন অ-স্বজনের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা উপহার পাওয়ার আশা করছেন এবং একজনের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেবেন। পাশাপাশি শ্বশুর, শাশুড়ি ও কয়েকজন আত্মীয়ের কাছ থেকেও উপহার হিসেবে অর্থ পাওয়ার তথ্য রয়েছে।
স্ক্যান কপির অস্পষ্টতার কারণে সুনির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণ করা না গেলেও প্রত্যেকের কাছ থেকে অন্তত ১ লাখ টাকা পাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। শ্যালকের কাছ থেকে অন্তত ১ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
নথি অনুযায়ী, সরজিস আলমের বিরুদ্ধে গাজীপুরে একটি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।