কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে থাকা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার আর উন্নতি হচ্ছে না। চিকিৎসকেরা নতুন কোনো চিকিৎসা কার্যকর হবে না বলে মত দেওয়ায় তাকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভেন্টিলেশনে থাকলেও তার শারীরিক প্রতিক্রিয়া আশাব্যঞ্জক নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকে কলকাতার নিজ বাসায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। বাসায় প্রয়োজনীয় লাইফ সাপোর্ট, অক্সিজেন ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বসিয়ে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে তাকে।
গত শুক্রবার আচমকা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় অচেতন অবস্থায় ওবায়দুল কাদেরকে কলকাতার বাইপাস এলাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। সে সময় চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, চিকিৎসায় সামান্য সাড়া মিললেও অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
বার্ধক্যজনিত একাধিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরেই শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। হাসপাতাল সূত্র ও ঘনিষ্ঠজনদের বরাতে জানা গেছে, নিউ টাউনের বাসায় অবস্থানকালে নিয়মিত অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হচ্ছিল তাকে। অবস্থার অবনতি ঘটায় শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছাড়েন ওবায়দুল কাদের। সে সময় আওয়ামী লীগের পতনের পর কয়েক মাস আত্মগোপনে থাকার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভারতে যান। গত জুনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ তৈরি হলে দমননীতির বিষয়ে ক্ষমা চাওয়া বা ভুল স্বীকারের প্রসঙ্গ আসতে পারে।
২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দীর্ঘদিন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এবং নোয়াখালী-৫ আসন থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।