ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ দৃষ্টান্ত’ হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে জানান, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক উত্তেজনা দ্রুত আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতায় রূপ নিতে পারে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং দক্ষিণ আমেরিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মহাসচিব সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করে সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। তার ভাষায়, পরবর্তী যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানবিক দিকটি উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আগামী সোমবার সকাল ১০টায় জরুরি বৈঠকে বসছে। বৈঠকে ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধিদলকেও উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পরিচালিত অভিযানে মার্কিন বিমানবাহিনী প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিযানের চার দিন আগেই তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিলেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্র: ইউএন নিউজ