মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেকেই গেজেট তালিকায় আহত হিসেবে নাম থাকা সত্ত্বেও প্রকৃতপক্ষে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেননি। তারা প্রতারণার মাধ্যমে গেজেট পেয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন। এই বিষয়ে জেলা কমিটিগুলো যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম বাতিলের সুপারিশ করেছে।
অঞ্চলভিত্তিক ভুয়া জুলাই-যোদ্ধা ও দ্বিগুণ গেজেটের বিবরণ অনুযায়ী, ময়মনসিংহে ২০ জন ভুয়া এবং ১ জনের নামে দুবার গেজেট, সিলেটে ২৬ জন ভুয়া এবং ১ জনের নামে দুবার গেজেট, চট্টগ্রামে ৩৪ জন ভুয়া এবং ৪ জনের নামে দুবার গেজেট, খুলনায় ৫ জন ভুয়া এবং ৪ জনের নামে দুবার গেজেট, রংপুরে ২ জন ভুয়া, ঢাকায় ৭ জন ভুয়া এবং ৭ জনের নামে দুবার গেজেট, রাজশাহীতে ৯ জন ভুয়া এবং ৪ জনের নামে দুবার গেজেট, বরিশালে ২ জনের নামে দুবার গেজেট প্রকাশ হয়েছে।
মোট ১২৭ জনের গেজেট বাতিলের মধ্যে ২৩ জনের নামে দুবার প্রকাশিত গেজেট অন্তর্ভুক্ত। বাকি ১০৪ জন জুলাই আন্দোলনে অংশ না নিয়েও গেজেটভুক্ত হয়েছিল। ময়মনসিংহ বিভাগের ভুয়া জুলাই-যোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন নেত্রকোনার সৈয়দ তরিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ নুরুল আমিন, তানভীর আহমেদ, আছিয়া খাতুন প্রমুখ। ঢাকার ভুয়া জুলাই-যোদ্ধাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম: রাসেল, খন্দকার রাজ, রাফিউল নাঈম। চট্টগ্রামে ভুয়া জুলাই-যোদ্ধা ৩৫ জন, যার মধ্যে মো. শাগর, আবদুল্লাহ আল নোমান, নাইম উদ্দীন শাঈদ প্রমুখ রয়েছেন।
জুলাই আন্দোলনে অংশ না নিয়েও তালিকাভুক্ত হয়ে বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে প্রমাণিত হলে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম (বীর প্রতীক)।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, আহত ও নিহতের সংখ্যা: ক শ্রেণী (অতি গুরুতর আহত) ৬০২ জন, খ শ্রেণী (গুরুতর আহত) ১,১১৮ জন, গ শ্রেণী (আহত) ১২,০৮০ জন এবং নিহত ৮৪৪ জন। এর মধ্যে ৮ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। মোট ১৪,৬৩৬ জনের নাম গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন জানান, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। প্রমাণিত হলে গেজেট বাতিল করা হবে। এরপর যারা অর্থ বা অন্যান্য সুবিধা নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হবে। গেজেট বাতিলের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।