আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের পদে হঠাৎ পরিবর্তন হয়েছে। আগের চিফ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পরিবর্তনের পেছনে ‘রাজসাক্ষী বাণিজ্য’ ও ‘সেটলিং সিন্ডিকেট’ সংক্রান্ত অভিযোগও সামনে এসেছে।
নতুন নিয়োগ ও দায়িত্ব হস্তান্তর
আইন মন্ত্রণালয় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক গেজেট জারির মাধ্যমে আমিনুল ইসলামকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বরের তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করা হয়। বিকেলের মধ্যে তাজুল ইসলাম নতুন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
প্রসিকিউশন টিমে অস্থিরতা
চিফ প্রসিকিউটর পরিবর্তনের সময়ে প্রসিকিউশন টিমের ভিতরে অস্থিরতার খবর পাওয়া গেছে। টিমের সদস্য অ্যাডভোকেট বিএম সুলতান মাহমুদ সাবেক চিফ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘বাণিজ্য’ এবং ‘রাজসাক্ষী নাটকের’ অভিযোগ তুলেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ তার সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, “প্রসিকিউশন টিমের কিছু প্রভাবশালী সদস্য গোপন সমঝোতা বা ‘সেটলিং’ বাণিজ্যে জড়িত।” এই মন্তব্যের সঙ্গে সমর্থন জানিয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করেছেন বিএম সুলতান মাহমুদ।
অভিযোগের বিস্তারিত
বিএম সুলতান মাহমুদ বলেন, “আশুলিয়ার লাশ পোড়ানো মামলার আসামি আফজালকে টাকার বিনিময়ে রাজসাক্ষী করা হয়েছে। ধানমন্ডির তদন্ত সংস্থায় বসে সাবেক চিফ তাজুল ইসলাম ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির একটি সিন্ডিকেট সাবেক আইজিপি মামুনকে রাজসাক্ষী বানায়। তারা দাগি খুনি পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেফতার না করে পালানোর সুযোগ দেয়। চিফ প্রসিকিউটরের চেয়ারকে টাকা কামানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “গত বছরের নভেম্বরে আফজালের স্ত্রী ভারী ব্যাগ নিয়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের রুমে প্রবেশ করে। বিষয়টি তাজুল ইসলানের কাছে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পরবর্তীতে আফজালকে রাজসাক্ষী করে খালাস দেওয়া হয়।”
তাজুল ইসলামের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। বিচার স্বচ্ছভাবে হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।”
ভাঙনের গুঞ্জন
নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগের পর টিমে থাকা জামায়াতপন্থী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বিভক্তির গুঞ্জন উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসনিক রদবদল বা গণ-পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেছেন, “আমরা নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। কোনো অনীহা নেই।”
নতুন সরকারের পাঁচ দিনের মধ্যে এই পদে পরিবর্তন বিচার ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। তাজুল ইসলানের সময়েই ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছিল।