NEIR চালু নিয়ে ক্ষোভ, লিখিত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
দেশের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার দেওয়া প্রতিশ্রুতি একের পর এক বাস্তবায়ন না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সারাদেশের মোবাইল ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একাধিক দপ্তর আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ বিটিআরসির চেয়ারম্যানের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন না হওয়ায় মোবাইল ব্যবসায়ী সমাজ নিজেদের প্রতারিত মনে করছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, আজ NEIR কার্যক্রম চালু করার মাধ্যমে আবারও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে এভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে তারা মনে করছেন।
এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে সারাদেশের মোবাইল ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় প্রতিবাদ, যার মাধ্যমে তারা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের বার্তা দিতে চান।
আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে মোবাইল বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেটের ভূমিকার অবসান চাওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় পুরো বাজারকে জিম্মি করার অপচেষ্টা চলছে, যা আর মেনে নেওয়া হবে না।
এদিকে ঘোষিত শাটডাউন কর্মসূচি চলাকালে কোনো প্রতিষ্ঠান বা শোরুম যদি এই সর্বজনীন সিদ্ধান্ত অমান্য করে খোলা রাখে, সে ক্ষেত্রে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ বহন করবে না বলেও জানানো হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দপ্তরগুলোর টালবাহানা ও দ্বিচারিতা বন্ধ করতে হবে। শুল্ক কাঠামো সংস্কার এবং উন্মুক্ত আমদানি নীতির বিষয়ে লিখিত ও আনুষ্ঠানিক সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
মোবাইল ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, অতীতে একাধিকবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন তারা। NEIR কার্যক্রম চালুর মধ্য দিয়ে সেই প্রতারণা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
একই সঙ্গে এই পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেশের সকল সচেতন মানুষকে মোবাইল ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।