প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গত ১৫ বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া শত শত কোটি ডলার পুনরুদ্ধার অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে বিশ্বের দেশ ও আর্থিক সংস্থাগুলোকে আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও আইনি সদিচ্ছা দেখানোর আহ্বান জানান, যাতে অবৈধ আর্থিক প্রবাহ রোধ ও সম্পদ প্রত্যাহার সম্ভব হয়।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের সময় রাত সাড়ে নয়টায় বাংলায় ভাষণকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন যে, গত পনেরো বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে এবং এসব সম্পদ ফেরত আনা অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, অবৈধ আর্থিক প্রবাহ বন্ধ এবং পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধারে কয়েকটি ক্ষেত্র জরুরি — আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্তগ্রহণ পদ্ধতির সংস্কার, একাধিক দেশের ওপর ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কর সহযোগিতা কাঠামো, এবং দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থপ্রবাহের বিরুদ্ধে সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ।
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এই প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। “সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দৃঢ় সদিচ্ছা ছাড়া আমরা পাচার হওয়া অবৈধ সম্পদ পুনরুদ্ধারে সফল হব না,” তিনি জানান।
ড. ইউনূস আরো বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা উন্নয়নশীল দেশ থেকে সম্পদের এই অবৈধ পাচার কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিধি-নির্দেশ ও ট্যাক্স হেভেন ব্যবস্থা এসব অর্থের স্থানান্তরকে উৎসাহিত করছে। তাই তিনি সেইসব দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে আহ্বান জানান যাতে তারা এই অপরাধের সহায়ক না হন এবং গচ্ছিত রাখা সম্পদ অবিলম্বে প্রকৃত মালিক—কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ করদাতাদের নিকট ফিরিয়ে দেয়।
অবশেষে প্রধান উপদেষ্টা প্রস্তাব দেন — উন্নয়নশীল দেশ থেকে সম্পদ পাচার রোধে কঠোর আন্তর্জাতিক বিধি নির্ধারণ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বৈশ্বিকভাবে ন্যায়সংগত অর্থনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।