রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তির মুখে অবশেষে সংশোধনী এনে চূড়ান্ত জুলাই সনদ আজ বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হতে পারে। এই সনদে তিনটি বিতর্কিত প্রতিশ্রুতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা নিয়ে বিশেষত বিএনপির মতো দলগুলো আপত্তি তুলেছিল। তবে, সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না।
জুলাই গণ-আন্দোলনের চেতনাকে ভিত্তি করে গত ১৬ আগস্ট জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আট দফা প্রতিশ্রুতির খসড়া প্রস্তাব দিয়েছিল। সেখানে তিনটি বিষয়ে আপত্তি ওঠে:
১. সনদ ও বিদ্যমান আইনের মধ্যে দ্বন্দ্ব হলে সনদের প্রাধান্য থাকবে।
২. সনদের ধারা বা সুপারিশের ব্যাখ্যার ক্ষমতা কেবল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের হাতে থাকবে।
৩. সনদের বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ নিশ্চিত করেছেন যে রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তির কারণে এই প্রতিশ্রুতিগুলোতে সংশোধন আনা হয়েছে। তিনি জানান, আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এমন প্রস্তাব রাখা হচ্ছে যা আইনি দিক থেকে গ্রহণযোগ্য এবং রাজনৈতিকভাবে টেকসই হবে।
চূড়ান্ত সনদটি দুটি খণ্ডে সাজানো হবে। প্রথম খণ্ডে থাকবে প্রশাসনিক আদেশ বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরযোগ্য বিষয়গুলো। দ্বিতীয় খণ্ডে থাকবে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার। তবে, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এই সনদের অংশ হবে না।
অধ্যাপক রীয়াজ আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত এবং আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়ার পর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সুপারিশগুলো সরকারকে আলাদাভাবে জমা দেওয়া হবে। তিনি এও নিশ্চিত করেন যে, কমিশনের মেয়াদ ১৫ সেপ্টেম্বরের পর আর বাড়ানো হবে না।
গত বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) অধ্যাপক রীয়াজ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠক করে দলগুলোর দেওয়া বাস্তবায়ন প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে অবহিত করেন। কয়েকটি দল গণসমাবেশ, গণভোট, সাংবিধানিক সংস্কার অধিবেশন বা রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মতো প্রক্রিয়া প্রস্তাব করেছে।
জানা গেছে, আজ বিকেল ৩টায় কমিশন আবার বৈঠকে বসবে এবং সনদ চূড়ান্ত করে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠাবে। এরপর একটি জনসভায় রাজনৈতিক দলগুলো এই সনদে স্বাক্ষর করবে। উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত ২৮টি দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে ২৬টি দলের মতামত নিয়েছে কমিশন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার, কমিশনের একজন সদস্য, ঢাকা পোস্টকে বলেন, এবার চূড়ান্ত সনদ পাঠানো হচ্ছে এবং এর ওপর আর কোনো মতামত নেওয়া হবে না।
গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। পরবর্তীতে এসব কমিশনের প্রধানদের নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়, যার লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামোর নীলনকশা হিসেবে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা।