গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতি, জুলাই বিপ্লব ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, তরুণ প্রতিবাদকারীদের উত্থান, ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি, রোহিঙ্গা সংকট এবং সত্য ও পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভোটকে কেন্দ্র করে লক্ষ্যভ্রষ্ট তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ছে। তবুও তার সরকার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে নির্ধারিত সময়েই। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ভোট এক দিন আগে বা এক দিন পর স্থান পাবে না। নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, উৎসবমুখর ভোটার উপস্থিতির মধ্যে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, তার সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণের অনুমোদনের মাধ্যমে প্রণীত জুলাই সনদ দেশে গণতান্ত্রিক শাসনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারের সুযোগ রাখবে না।
প্রধান উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া খবর ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে চেষ্টা করছে। তবে জনগণ ক্রমশ সচেতন হচ্ছে এবং তারা এখন এআই-ভিত্তিক ভুয়া ভিডিও চিহ্নিত করতে সক্ষম।
এ সময় সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি আলবার্ট গোম্বিস বলেন, ভুয়া খবর বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের বড় হুমকি এবং এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। উভয় কূটনীতিক প্রধান উপদেষ্টার গত দেড় বছরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ পরবর্তী সত্য ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার অনুকরণ সম্ভব কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার পুনর্মিলন প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে অনুসরণ করেছেন। তবে সাবেক শাসনামলের পক্ষ নিজেদের অপরাধ স্বীকার না করায়, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এমন কোনো উদ্যোগের সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, “সত্য ও পুনর্মিলন তখনই শুরু হয়, যখন কেউ নিজের ভুল স্বীকার করে, অনুতপ্ত হয় এবং অপরাধের জন্য যথাযথ অনুশোচনা প্রকাশ করে।”
তিনি আরো বলেন, এখনও কোনো অনুশোচনা বা অনুতাপ লক্ষ্য করা যায়নি। বরং কিছু পক্ষ দাবি করছে, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত তরুণরা সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছে। বাস্তবে তাদের অপরাধের অগণিত প্রমাণ রয়েছে—যা নির্মম এবং বর্বর—তবুও তারা তা অস্বীকার করছে।
বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদও উপস্থিত ছিলেন।