জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা মো. জোবায়েদ হোসেনকে তার নিজ গ্রাম হোমনা উপজেলার কলাগাছিয়া (কৃষ্ণপুর) পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। পরিবারের দাবি, হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার করতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জোবায়েদ হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) মাগরিবের নামাজের পর হোমনা উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের কলাগাছিয়া (কৃষ্ণপুর) স্কুল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিতরা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
বিকেল সাড়ে ৫টায় মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে আশপাশের গ্রামের মানুষ তাকে শেষবার দেখার জন্য ভিড়ে জমে ওঠে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
জোবায়েদের মা মাফিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে হত্যাকারীদের শাস্তি চাই। যত ভালোবাসা আর যত্ন দিয়ে বড় করেছি, কেন এমন হলো?”
নিহতের চাচা আক্তার হোসেন বলেন, “রোববার আমি প্রেসক্লাবে বসে ছিলাম। হঠাৎ ফোনে জানানো হয়, আমার ভাতিজা নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে গেলাম। এখন আমরা তাকে কোথায় নিয়ে যাব?” জোবায়েদ চার ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়।
জোবায়েদ হোসেন কলাগাছিয়া গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত রোববার (১৯ অক্টোবর) রাতে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার একটি ভবনের সিঁড়ি থেকে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।