স্টান্ট রাইডার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তরুণদের একাংশের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন আর এস ফাহিম চৌধুরী, যার প্রকৃত নাম কামরুল হাসান চৌধুরী।কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের পাশাপাশি আওয়ামীলীগ
এর চাটুকারিতার জন্যেও বেশ জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আরেক জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার ও মাইটিভির চেয়ারম্যান এর ছেলে তাওহীদ আফ্রিদি বরিশাল থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই 'ফাহিমকে কেন গ্রেফতার করা হবে না?' এই প্রশ্ন তুলছে শিক্ষার্থীরা।
তার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং পরিচালনা, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র হত্যায় পরোক্ষ ভাবে জড়িত থাকা এবং স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ এর বিভিন্ন অনৈতিক কাজে সম্মতি উৎপাদনের মত অভিযোগ রয়েছে।
২৪ সালের ছাত্রজনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যায় পরোক্ষে সম্মতি দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে তার বিরুদ্ধে । গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময় আর এস ফাহিমের একটি অডিও কল রেকর্ড ফাঁস হয়। সেখানে তাকে শোনা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও তার বড় ভাই তারেকুজ্জামান রাজীব কীভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়ির ছাদ থেকে গুলি চালাচ্ছেন, তার বর্ণনা দিতে। ওই ফোনালাপে ঘটনাটি নিয়ে হাসাহাসিও করতে শোনা যায় ফাহিমকে।
ফাহিম দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত কমিশনার তারেকুজ্জামান রাজীবের “ডান হাত” হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ আছে, ঢাকার রাস্তায় নিজস্ব গ্যাং নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতেন তিনি। সাধারণ মানুষ তাদের গোডাউনের আশেপাশে চলাচল করতেও ভয় পেত। আওয়ামী লীগের আশীর্বাদে ফাহিম ছিলেন বরপুত্রের মতো, যাকে ঘিরে দাপট, প্রভাব আর ভয় দেখিয়ে রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তিনি।
তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে, এক ভিডিও শুটের সময় তার এক কর্মী ব্রিজে মাথায় আঘাত পেয়ে নিহত হলেও তার এই আওয়ামী প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে এ ঘটনায় কখনো তাকে আইনের জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হয়নি।
এছাড়াও, পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আয়োজিত ২০২৪ সালের "অবৈধ নির্বাচনে" আওয়ামী লীগের পক্ষে সরবভাবে প্রচারণা চালান ফাহিম। পাশাপাশি ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবেও তিনি বিভিন্ন সময় কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাওহীদ আফ্রিদির গ্রেফতারের পর থেকে আরও যেসব ইনফ্লুয়েন্সার টাকা এবং প্রভাব-প্রতিপত্তির জন্য স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ অপশাসন, দুর্নীতি ও নির্যাতনের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করেছে, তাদের গ্রেফতারের দাবি তুলছে সাধারণ ছাত্রজনতা। এর মধ্যে আর এস ফাহিমের নাম উপরের দিকেই থাকবে।
তাই সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন— কবে গ্রেফতার হচ্ছেন আর এস ফাহিম?