চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে এইচআরডব্লিউ, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), সিভিকাস, ফোরটিফাই রাইটস, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।
চিঠিতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লব ও শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার রক্ষা, আইনি সংস্কার, গুম–নিপীড়নের তদন্ত এবং নিরাপত্তা খাতে স্বচ্ছতা আনার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সংস্থাগুলোর মতে, এই পদক্ষেপগুলোকে আরও টেকসই ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে, যাতে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ও সুষ্ঠু হয়।
তারা উদ্বেগ জানায়, এখনো নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর মধ্যে পূর্বের প্রভাব ও অনিয়ম রয়ে গেছে, এবং অনেক ক্ষেত্রে জবাবদিহির অভাব দেখা যাচ্ছে। অতীতের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বিচার গ্রেপ্তার, দীর্ঘমেয়াদি আটক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও সংস্থাগুলোর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তারা উল্লেখ করে, মিয়ানমারে পরিস্থিতি এখনো নিরাপদ নয়, তাই বাংলাদেশের সরকার যেন কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনে বাধ্য না করে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, র্যাব বিলুপ্ত করা, ডিজিএফআইয়ের ক্ষমতা সীমিত করা, গুমবিষয়ক তদন্ত কমিশনকে কার্যকর করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) পুনর্গঠন করা এখন সময়ের দাবি। এসব উদ্যোগ জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে সংস্থাগুলোর মন্তব্য।
তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিতকারী বিধিগুলো দ্রুত সংশোধন বা বাতিল করতে হবে। সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর হয়রানি ও গ্রেপ্তার বন্ধ করারও দাবি জানানো হয়।
চিঠিতে রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জাতীয় ঐক্য গঠনের পথে এই নিষেধাজ্ঞা বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
শেষ অংশে সংস্থাগুলো নাগরিক সমাজ ও এনজিওগুলোর তহবিল এবং কার্যক্রমে আরোপিত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর কাঠামোগত সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার আহ্বান জানায়। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশের মানবাধিকার সুরক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।