তিনি বলেন, “গণমাধ্যম সংস্কারের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ১২টি কর্মসূচি নিয়ে সরকার কাজ করছে, যা আগস্টের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।” সাংবাদিকদের সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এটি একটি প্রক্রিয়াধীন বিষয়। অধ্যাদেশের আওতায় সাংবাদিকতার সংজ্ঞা এবং পরিধি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন নিয়েও সরকার কাজ করছে জানিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, “এটি বাস্তবায়নের জন্য একাধিক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেই ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করা হবে।” পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চাকরিচ্যুতি এবং সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হঠাৎ করে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করার প্রবণতা বন্ধে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সাংবাদিকদের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা গেলে তারা নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করতে উৎসাহিত হবেন।” তিনি গণমাধ্যম মালিকদের প্রতি সাংবাদিকদের সম্মানজনক বেতন প্রদানের আহ্বান জানান।
মাহফুজ আলম আরও বলেন, “গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের মালিকানার ভাগ দেওয়া যায় কিনা তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এতে সাংবাদিকরা ক্ষমতায়িত হবেন এবং মালিক ও সাংবাদিকদের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে।”
বর্তমান সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমকে একটি নীতিমালার আওতায় আনার লক্ষ্যে সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। ওটিটি ও অনলাইন মিডিয়ার জন্যও আইসিটি বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “অভ্যুত্থানের সময় কিছু সংবাদপত্র নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে, আবার কিছু টেলিভিশনের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা ছিল। মোবাইল সাংবাদিকতার মাধ্যমে অনেকেই সরাসরি আন্দোলনের অংশ হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করেছেন। ফটো সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনের প্রতিটি মুহূর্ত ধারণ করেছেন, যা আজ ইতিহাস হয়ে আছে।”
তিনি সমালোচনা করে বলেন, “যেসব গণমাধ্যম বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতি ও পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে, তাদের অবস্থান জনগণের সামনে পরিষ্কার করা উচিত। সরকার এখন কোনো গণমাধ্যমকে ফোন করে প্রভাবিত করে না। গণমাধ্যমকে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মো. শফিকুল আলম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাঠের সাংবাদিকদের ভূমিকা ইতিহাসে নজিরবিহীন। তারা ব্যক্তি উদ্যোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সঠিক সংবাদ পরিবেশন করেছেন, যা দেশের সাংবাদিকতাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কাউসার আহমেদ, পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়’র মা শামসি আরা জামান, শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ধারণকারী সাংবাদিক তাওহীদুল হক সিয়াম এবং দ্য ডেইলি স্টারের ফটো সাংবাদিক ইমরান হোসেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পাঁচ সাংবাদিকের পরিবার এবং আহত ও সাহসী ১৯২ জন সাংবাদিককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আর্থিক সম্মাননা হিসেবে মোট ৫৬ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়