গণঅভ্যুত্থানের ফল ভাগবাটোয়ারা নিয়ে হতাশা
জুলাই আন্দোলনের সফলতা যাদের সাহস ও পরিশ্রমে সম্ভব হয়েছিল, তারা আজ ফল ভোগে পিছিয়ে। বিএনপি ও জামায়াত সেই অর্জন নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধায় ব্যবহার করছে। এমনকি আগামী নির্বাচন কেন্দ্র করেও পেছনে নানা সমঝোতার আয়োজন চলছে বলে এমন অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম।
বাংলামোটরে দলের কার্যালয়ে আরব আমিরাতে কারাবন্দী প্রবাসীদের মুক্তি উদযাপন ও দোয়া অনুষ্ঠানে নাহিদ বলেন “আমরা কখনো বলিনি যে গণঅভ্যুত্থান শুধু এনসিপির কৃতিত্ব। এত বড় আন্দোলন ছাত্র, তরুণ, সাধারণ মানুষের সম্মিলিত শক্তিতে গড়ে উঠেছে। কিন্তু যখন শহীদ পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া, আহতদের পাশে দাঁড়ানো বা কারাবন্দী প্রবাসীদের সহায়তার প্রসঙ্গ আসে—অনেকে তখনই সব চাপিয়ে দেয় এনসিপির ঘাড়ে। অথচ আন্দোলনের সময় এসব পরিবার, এসব মানুষ কত কষ্ট করেছে—তা যেন কেউ দেখতেই পায়নি।”
সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি আরও বলেন—
“সংস্কারের যাত্রা আমরা শুরু করেছিলাম নির্ভয়ে। কিন্তু প্রকাশ্যে ও নীরবে—দুই দিক থেকেই প্রতিরোধ এসেছে। একটি দল প্রকাশ্যে সংস্কারের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে, আরেকটি দল নীরবে বাধা দিয়েছে। এ কারণেই আমরা কাঙ্ক্ষিত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি।”
কারাবন্দী প্রবাসীদের প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন—
“তাদের মুক্তির ব্যবস্থা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। পরিবারগুলো যে দুঃসহ সময় পার করেছে—তা ভাষায় বোঝানো যাবে না। এরা জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা। সরকার পতন না হলে তাদের মুক্তি অসম্ভব ছিল। ঝুঁকির মধ্যেও তারা রাজপথে নেমেছিল—এই অবদান কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না। তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের।”
শেষে খালেদা জিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন—
“তিনি গুরুতর অসুস্থ। আমরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তার যে ভূমিকা, তা দেশ কখনো ভুলবে না। তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি।”