আইন উপদেষ্টা এডভোকেট আসিফ নজরুল বলেছেন, ব্যক্তিগত উপদেষ্টাদের জন্য নয় — বরং অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে দেশের জন্য একটি নিরাপদ বেরোমুখ বা ‘সেইফ এক্সিট’ জরুরি। তিনি জানান, বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠান সংস্কারের পথে অগ্রগামী; বাকি কাজ ভবিষ্যৎ সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। সভায় শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও বলেন, গুম, খুন ও নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলো পুনরাবৃত্তি রোধে ভাঙা-নতুন সব প্রতিষ্ঠান শক্ত করতে হবে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর এক হোটেলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন আইন উপদেষ্টা এডভোকেট আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “উপদেষ্টাদের কারো কোনো বিশেষ ‘সেইফ এক্সিট’ প্রয়োজন নেই। আমাদের দেশের মূল সমস্যা হলো অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন—এই থেকেই জাতির জন্য একটি নিরাপদ বেরোনোর পথ তৈরি করা দরকার।”
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, “এই সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের ধারা শুরু হয়েছে; যেসব কাজ বাকি আছে সেগুলো পরবর্তী সরকারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া উচিত।” তিনি সরকারের চলমান সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করলেও জনগণের প্রতি আশা ব্যক্ত করে বলেন, “দেশের মানুষ যেন আর অন্যায়-অবিচারের শিকার না হয়—এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।”
সভায় শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছিলেন, অতীতের গুম, খুন ও নির্যাতনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে ভাঙা-ছিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করে স্থিতিশীল করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে জোর ছিল যে, কেবল আইনের ঘোষণাই যথেষ্ট নয়—কার্যকর বাস্তবায়ন, গোয়র্ভন্যান্স ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দৃঢ়ভাবে দাঁড় করাতে হবে।
সভায় অংশ নেওয়া অন্যান্য বক্তাও জাতীয় মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা উল্লেখ করেন—মানবাধিকার লঙ্ঘন যেন শাসন ব্যবস্থার অংশ না হয়ে ওঠে, সেজন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচারের পথে নিরবিচ্ছিন্ন অগ্রগতি প্রয়োজন।