প্রফেসর ইউনূস বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ আমাদের জাতীয় জীবনের ঐতিহাসিক অর্জন। এটি কেবল দলিল নয়, গণতন্ত্রের স্থিতি ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা।” তাঁর মতে, এই সনদ একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়, যার মেয়াদ শেষ হয় ৩১ অক্টোবর। কমিশনের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা তৈরি।
ড. ইউনূস বলেন, জনগণ এখন এমন পরিবর্তন প্রত্যাশা করে যা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করবে, স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে এবং নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেবে। তিনি বলেন, “সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এই সংস্কার আমরা নিজেরাই করেছি—বাইরের কারও প্রভাব ছাড়াই। অতীতে বিদেশি মধ্যস্থতায় সংলাপ হয়েছে, কিন্তু এবার আমরা নিজেরাই ঐক্যমতে পৌঁছেছি।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক দলগুলো বুঝেছে, জাতির সংকটের সমাধান জাতির ভেতরেই সম্ভব। তাই সব দল একসাথে আলোচনায় বসে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। তাঁর মতে, এটি বিশ্ববাসীর সামনে বাংলাদেশের ঐক্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যারা অক্লান্ত পরিশ্রমে এই সনদ বাস্তবায়ন করেছেন, তারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন।”
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই জাতীয় সনদ এখন এক বৈশ্বিক উদাহরণ। “বিশ্বের ইতিহাসে এমন নজির বিরল—যেখানে একটি দেশ অভ্যন্তরীণ ঐক্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা তৈরি করেছে,” বলেন ইউনূস।
ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া এবং বিশেষ সহকারী মনির হায়দারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান, যারা মাসের পর মাস কমিশনের কার্যক্রম জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের এই যাত্রায় আমাদের ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু ঐক্যই তাদের পরাজিত করবে। ভবিষ্যৎ নির্মাণে সকল রাজনৈতিক পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে—যত প্রতিকূলতাই আসুক না কেন।”