রমজানের তৃতীয় জুমার নামাজ আদায় করতে পারেননি ফিলিস্তিনিরা। সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে টানা অষ্টম দিনের মতো বন্ধ রাখা হয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) নামাজের সময় কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ইসরায়েল প্রশাসন ও পুলিশ।
জেরুজালেম গভর্নরেটের দাবি, জরুরি পরিস্থিতি ও ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আজানের ধ্বনি শোনা গেলেও পুরো প্রাঙ্গণ ছিল ফাঁকা; কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
এর আগে রমজানের প্রথম দুই জুমায়ও কড়াকড়ি ছিল। তখন পশ্চিম তীর থেকে সীমিতসংখ্যক মুসল্লিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়—পুরুষদের ন্যূনতম বয়স ৫৫ ও নারীদের ৫০ বছর নির্ধারণ করে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। এবার পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি আন্দোলনকারীরা এ পদক্ষেপকে পরিকল্পিত কৌশল বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের ভাষ্য, নিরাপত্তার অজুহাতে আল-আকসাকে মুসল্লিশূন্য রাখা হচ্ছে, অথচ ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে। এক বাসিন্দার দাবি, এটি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, রমজানে জুমা ও তারাবিহে বাধা দেওয়া কেবল নিরাপত্তা ইস্যু নয়; এটি ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা বদলের ইঙ্গিত। ফিলিস্তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, ইব্রাহিমি মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে অভিযান ও হামলার ঘটনা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের মতে, আল-আকসাকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি এখন তাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন।
সূত্র: আল জাজিরা