গাজার নৌ অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিল্লা’ আটক করেছে ইসরায়েল। এতে থাকা ১৭০ জন অধিকারকর্মীর মধ্যে ছিলেন সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনের নেতা গ্রেটা থানবার্গও। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকেই গ্রিস ও স্লোভাকিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।
গাজার নৌ অবরোধ অমান্য করে মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিল্লা’ (জিএসএফ) অভিযানে অংশ নেওয়া ১৭০ জন কর্মীকে গত সপ্তাহে আটক করে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। তাদের মধ্যে সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনের প্রতীকী মুখ গ্রেটা থানবার্গও ছিলেন। পরে সবাইকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এথেন্স বিমানবন্দরে পৌঁছে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ও ফুলেল অভ্যর্থনা পান গ্রেটা। তিনি মুষ্টিবদ্ধ হাতে সংহতির প্রতীক প্রদর্শন করে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানান।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আটক কর্মীদের মধ্যে গ্রিস, স্লোভাকিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৪১ জনকে ইতোমধ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে, আর ১৩৮ জন এখনও ইসরায়েলে আটক রয়েছেন।
জিএসএফ জানায়, আটক কর্মীদের মধ্যে ৪০ জনেরও বেশি অনশন ধর্মঘটে রয়েছেন। সংগঠনটির দাবি, ফ্লোটিল্লার লক্ষ্য ছিল গাজার অবৈধ অবরোধ ভেঙে মানবিক করিডর তৈরি করা এবং চলমান সহিংসতা ও গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানানো।
অন্যদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা বৈধ অবরোধ কার্যকর করেছে এবং ফ্লোটিল্লা অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ‘রাজনৈতিক নাটক’। দেশটির দাবি অনুযায়ী, নৌবহরে মাত্র দুই টন ত্রাণসামগ্রী বহন করা হচ্ছিল, যা মানবিক ত্রাণ নয় বরং প্রচারমূলক উদ্যোগ ছিল।
ইসরায়েল আরও জানিয়েছে, আটক কর্মীদের সঙ্গে কোনো ধরনের নির্যাতন বা অধিকার হরণের ঘটনা ঘটেনি— এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও প্রোপাগান্ডা’।
সূত্র: বিবিসি নিউজ।