সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “দগ্ধ রোগীদের ইনফেকশন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ত্বক পুড়ে গেলে শরীরের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ভেঙে পড়ে। ইনফেকশন দ্রুত রক্তে ছড়িয়ে সেপসিস তৈরি করতে পারে, যা অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়।”
তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে দগ্ধ রোগীদের সুরক্ষায় ৭টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন:
১. রোগীর আশপাশে ভিড় করা যাবে না। ভিড় বাড়লে রোগীর আশপাশে জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। যেতে হলে অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে তারপর প্রবেশ করতে হবে।
২. রোগীর বিছানা, কাপড় বা কোনো আসবাবপত্র স্পর্শ করা যাবে না। সম্ভব হলে গ্লাভস, মাস্ক ও গাউন ব্যবহার করতে হবে। স্পর্শের মাধ্যমে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
৩. ডিম, টুথপেস্ট, মাটি বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান পোড়া জায়গায় দেওয়া যাবে না। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং সঠিক চিকিৎসা ব্যাহত হয়।
৪. ড্রেসিংয়ের আগে-পরে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। ড্রেসিং করতে হলে চিকিৎসক বা নার্সের কাছ থেকে প্রক্রিয়াটি শিখে নিতে হবে।
৫. প্রতিবার ড্রেসিংয়ের সময় ক্ষতস্থানে ফোলাভাব, ব্যথা বা পুঁজ দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে জানাতে হবে।
৬. যেসব রোগীর শ্বাসনালি দগ্ধ হয়েছে, তাদের শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা দেখা দিলে বিলম্ব না করে চিকিৎসা নিতে হবে।
৭. রোগীর টিটেনাস টিকা দেওয়া আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। না দেওয়া থাকলে দ্রুত চিকিৎসককে জানাতে হবে।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, “এই ছোট ছোট সতর্কতা মেনে চললেই অনেক দগ্ধ রোগীকে জীবনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। সেবা ও সহানুভূতির পাশাপাশি সচেতনতা এখন সবচেয়ে জরুরি।”