সম্প্রতি Meta-র দ্বিতীয় প্রান্তিকের (Q2 2025) আয়-ব্যয় প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে জুকারবার্গ বলেন, “যারা ভবিষ্যতে স্মার্টগ্লাস পরবে না, তারা বড় ধরনের ‘কগনিটিভ ডিসঅ্যাডভান্টেজ’ (Cognitive Disadvantage)-এর মুখে পড়বে।” তার মতে, যেভাবে দৃষ্টিশক্তিহীনদের জন্য চশমা প্রয়োজন, ঠিক তেমনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের সুবিধা নিতে স্মার্টগ্লাস হয়ে উঠবে অপরিহার্য।
Meta ইতোমধ্যেই Ray-Ban ও Oakley-এর মতো বিখ্যাত ব্র্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে স্মার্টগ্লাস তৈরির কাজ করছে। এআই ও হার্ডওয়্যার প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছর ৭২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি, স্মার্টগ্লাসের বিক্রি গত বছরের তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানায় Meta।
Meta-এর নতুন “Personal Superintelligence” প্রকল্পের অধীনে স্মার্টগ্লাস ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অভ্যাস, প্রয়োজন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী AI সেবা দেবে। এই লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের Superintelligence Lab-এ বিশ্বমানের প্রকৌশলীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাদের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেতন অফার করা হচ্ছে।
তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশ জুকারবার্গের এই ঘোষণাকে প্রচারণামূলক বলে মনে করছেন। কারণ, Meta-র Reality Labs বিভাগ চলতি ত্রৈমাসিকে ৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার লোকসান করেছে। ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এই ক্ষতির পরিমাণ ৭০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টগ্লাসের গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। অতীতে Meta-র উপর তথ্য গোপন ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকায়, এই প্রযুক্তি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এছাড়া স্মার্টগ্লাসের ব্যবহারবান্ধবতা এবং সাধারণ মানুষের নাগালে আসা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, Meta-এর এই প্রকল্প সরাসরি Apple ও Google-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতার মঞ্চ তৈরি করবে। যেখানে Apple তাদের iPhone-কেন্দ্রিক ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে, সেখানে জুকারবার্গ স্মার্টগ্লাসকে মোবাইল ফোনের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। অন্যদিকে, OpenAI, Alibaba, Google-সহ আরও বহু প্রতিষ্ঠান AIচালিত Smart Wearable প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি জগতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তির এই পরিবর্তন বাংলাদেশেও দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলবে। মোবাইল ডিভাইস ও অ্যাপ-নির্ভর ফ্রিল্যান্সিং এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এর জন্য প্রযুক্তিকর্মীদের দ্রুত ‘Reskilling’ বা নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
Meta-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্মার্টগ্লাস ও AI প্রযুক্তি শুধু একটি গ্যাজেট নয়, বরং মানুষের চিন্তাভাবনা ও কাজ করার ধরণ পাল্টে দেবে। স্মার্টফোন-পরবর্তী যুগে মানুষকে ‘চোখের সামনে প্রযুক্তি’ ব্যবহারের অভ্যাস গড়তে বাধ্য করবে এই স্মার্টগ্লাস।
সোর্স:দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল