মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষককে আটক করে র্যাব। পরে বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহে একটি সংবাদ সম্মেলন শেষে তাকে নেত্রকোণা জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী শিশুর মা মদন থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে তিনি মদন উপজেলার পাঁচহার এলাকায় ওই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তার স্ত্রী প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত। ভুক্তভোগী শিশুটি এক বিধবা নারীর একমাত্র সন্তান, যার মা জীবিকার কারণে সিলেটে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। ফলে শিশুটি নানির কাছেই থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর জোরপূর্বক শিশুটিকে নির্যাতন করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে ভয়ভীতি দেখান। এরপর ১৮ এপ্রিল তিনি ছুটি নিয়ে প্রতিষ্ঠান ছাড়েন এবং আর ফিরে আসেননি। একই সময়ে শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিশুটিও দীর্ঘদিন মাদ্রাসায় অনুপস্থিত ছিল।
পুলিশ জানায়, ভোর সোয়া ৪টার দিকে র্যাব-১৪ এর একটি দল গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আসামিকে দ্রুত আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সময় অনুকূলে থাকলে আজই, না হলে আগামীকাল তাকে আদালতে হাজির করা হবে।