ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রোববার দুপুরে গাজী নজরুল ইসলাম তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান। খাবার শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা পৃথক কক্ষে চলে যান।
পরে বিকেল ৫টার দিকে মরিয়মের কক্ষে গিয়ে তাকে ডাকাডাকি করা হয়। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় জানালা দিয়ে কক্ষের ভেতর তাকানো হয়। তখন মরিয়মকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান।
ডিসি জানান, পুলিশ গিয়ে জানালা দিয়ে কক্ষের ভেতরে মরদেহটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। বিষয়টি তদন্তে পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দলকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছে। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থানা পুলিশ কক্ষে প্রবেশ করবে।
মরিয়মের মৃত্যুর সময় কখন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।
মরিয়ম খাতুনকে নিয়ে এর আগে গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল। ভিডিওটিতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল ওই তরুণীকে মরিয়ম খাতুন হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে জানান।
ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলটির পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।