এবারের বাজেটে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং দেশীয় শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে কর ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক সহায়তা ও প্রকল্প ঋণের মাধ্যমে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার ও খাদ্য খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে সরকার ১ লাখ ১৭ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এই বরাদ্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা এবং আয়কর ও মূলধনী মুনাফা কর থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেট, নিকোটিনজাত পণ্য, আমদানিকৃত কাজুবাদাম, হিমায়িত মাছ, বিদেশি প্রসাধনী ও এমএস রডের ওপর কর ও শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। ফলে এসব পণ্যের বাজারমূল্য বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে দেশীয় ইলেকট্রনিকস শিল্পকে উৎসাহ দিতে ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর ও এসির উৎপাদন পর্যায়ের ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সোলার যন্ত্রপাতি এবং কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে কর সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হলো পাঁচ বছরের আয়কর রোডম্যাপ। এর আওতায় ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে ২০৩০-৩১ করবর্ষে এই সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।